গ্রহাণুর আঘাতে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে পৃথিবী?চলছে প্রতিরোধের প্রস্তুতি।

asteroid_0বেশ কয়েকদিন আগেই পৃথিবীর খুব কাছ দিয়ে চলে গেল একটি গ্রহাণু। বিজ্ঞানীরা হিসেব করে দেখেছেন, এটি ২০৩২ সাল নাগাদ আবার পৃথিবীর খুব কাছ দিয়ে অতিক্রম করবে কিংবা পৃথিবীতে আঘাত হানবে। নাসা যদিও বলছে গ্রহাণুটির পৃথিবীতে আঘাত হানার সম্ভাবনা একদমই কম তবুও বিজ্ঞানীরা ঝুঁকি নিতে রাজি নন। তাই তারা একটি কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠাতে চাচ্ছেন যেটি পৃথিবী আর সূর্যের মাঝামাঝি ব্লাইন্ড জোন বা অন্ধকারাচ্ছন্ন এলাকা পর্যবেক্ষণ করবে যেটি থেকে পৃথিবীতে আঘাত হানা সম্ভাব্য গ্রহাণুরা ছুটে আসতে পারে। আর এ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে Gaia Space Telescope,গত বছর ইউরোপে তৈরি করা হয়েছে এবং আগামী ৩০ নভেম্বর এই ফ্রেঞ্চ গায়ানা থেকে উৎক্ষেপণ করা হবে।

 

ইউক্রেনের Crimean Astrophysical Observatory থেকে জ্যোতির্বিদরা গত ৮ অক্টোবর 2013 TV135 নামের এই গ্রহাণুটি পর্যবেক্ষণ করে এর কথা জানান। অক্টোবরের ১৬ তারিখ এটি ৪.২ মিলিয়ন মাইল দূর দিয়ে পৃথিবীকে অতিক্রম করে। প্রাপ্ত তথ্য বলছে, ১৩০০ ফুট দৈর্ঘ্যের বিশাল এই গ্রহাণু আগামী ২০ বছরের মাঝে আবার পৃথিবীর মুখোমুখি হবে। যদিও নাসা’র মতে এরকম সম্ভাবনা খুবই কম।

বিজ্ঞানীরা এতদিন সূর্য থেকে আসা তেজস্ক্রিয় রশ্মির কারণে পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যবর্তী ‘ব্লাইন্ড জোন’ এ থাকা গ্রহাণুগুলোর অবস্থান নির্ণয় করতে পারছিলেন না। কিন্তু ইউরোপীয় মহাশূন্য সংস্থার Gaia Space Telescope এ কাজে সফল হবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার চেবারকুলে যখন গ্রহাণু বিস্ফোরিত হয়, সেটিকে প্রথমে নির্ণয় করা যায় নি কারণ সেটি এই ব্লাইন্ড জোন থেকে এসেছিল। আর সেসময় প্রায় ১০০০ মানুষ আহত হয়েছিল।

নাসা’র Near-Earth Object Programme Office পৃথিবীতে আঘাত হানতে পারে এরকম সম্ভাব্য গ্রহাণু ও ধূমকেতুর অবস্থান নির্ণয়ের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। অক্টোবরের ১৪ তারিখ পর্যন্ত এরকম ১০ হাজার ৩৩২ টি near-Earth objects বা পৃথিবীর নিকটবর্তী নতুন মহাজাগতিক বস্তু আবিষ্কৃত হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়াতে অবস্থিত নাসা’র জেট প্রপালশন ল্যাবেরটরির গবেষক এমি মেইনজার এসংক্রান্ত একটি গবেষণা সম্পন্ন করেছেন। গবেষণাপত্রের শিরোনাম ছিল ‘“The Population of Tiny Near-Earth Objects Observed by NEOWISE.” আর প্রকাশিত হয় এস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নালে। এই গবেষণাতে পৃথিবীতে আঘাত হানতে পারে এরকম সম্ভাব্য বস্তুগুলোর কক্ষপথ, দৈর্ঘ্য ও আঘাত হানার সম্ভাবনা কতটুকু সেসম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *